যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাব বিশ্ববাজারে, চাপে এশিয়ার শেয়ার বাজার
মার্কিন নির্বাচন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অস্থির বিশ্ববাজার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এশিয়ার অধিকাংশ শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা গেছে। তবে আগের দিনের বড় পতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ( ০৩ নভেম্বর ) এশিয়ার লেনদেনে এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক সূচক (জাপান বাদে) ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের সূচক একপর্যায়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। অন্যদিকে তাইওয়ানের শেয়ারবাজার কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখা গেলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো বেশ কাছাকাছি।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আসন্ন ঋণ ব্যবস্থাপনা ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
তেলের দাম স্থিতিশীল, ব্রেন্ট ১০৫ ডলারের ওপরে
এশিয়ার বাজারে মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমেছিল।
তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বাজারে প্রভাব ফেলছে।
অস্ট্রেলিয়ায় সুদের হার বৃদ্ধি
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিসুদ ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ করেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ব্যাংকটির ছয়জন সদস্য সুদ বাড়ানোর পক্ষে এবং তিনজন বিপক্ষে ভোট দেন।
সুদের হার বৃদ্ধির পর অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজার ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে দেশটির মুদ্রা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ০ দশমিক ৬৯৭৮ মার্কিন ডলারে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও দরপতন
সোমবার ওয়াল স্ট্রিটেও শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর আয় নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে আইফোন নির্মাতা অ্যাপলের শেয়ারের দাম আফটার-আওয়ার লেনদেনে ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ছুটির মৌসুমে পণ্যের মোট মুনাফার হার কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারে এ পতন দেখা যায়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ২ দশমিক ১ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৯১৩ শতাংশ হয়েছে।
ডলারের দর ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সূচক ১০১ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে স্থিতিশীল ছিল। অন্যদিকে অফশোর বাজারে চীনা ইউয়ানের বিপরীতে ডলারের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৬৭২৪ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারেও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিটকয়েনের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৬ হাজার ৮২২ ডলারে উঠেছে। বিপরীতে ইথারের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ২৫০ ডলারে নেমেছে।




একটি মন্তব্য